وَٱلسَّٰبِقُونَ ٱلۡأَوَّلُونَ مِنَ ٱلۡمُهَٰجِرِينَ وَٱلۡأَنصَارِ وَٱلَّذِينَ ٱتَّبَعُوهُم بِإِحۡسَٰنٖ رَّضِيَ ٱللَّهُ عَنۡهُمۡ وَرَضُواْ عَنۡهُ وَأَعَدَّ لَهُمۡ جَنَّٰتٖ تَجۡرِي تَحۡتَهَا ٱلۡأَنۡهَٰرُ خَٰلِدِينَ فِيهَآ أَبَدٗاۚ ذَٰلِكَ ٱلۡفَوۡزُ ٱلۡعَظِيمُ 100
১০০. মুহাজির তথা যারা আল্লাহ তা‘আলার জন্য নিজেদের ঘর-বাড়ি ছেড়েছে এবং আনসার তথা যারা তাঁর নবী ও মুহাজিরদেরকে সহযোগিতা করেছে তাদের মধ্যে যারা সর্বপ্রথম দ্রুত ঈমান এনেছে এবং যারা নিষ্ঠার সাথে বিশ্বাস, কথা ও কাজে ঈমানে অগ্রবর্তী মুহাজির ও আনসারীদের অনুসরণ করেছে আল্লাহ তা‘আলা তাদের সবার উপর সন্তুষ্ট হয়ে তাদের আনুগত্য ও ধার্মিকতা কবুল করেছেন এবং তারাও তাঁর উপর সন্তুষ্ট। কারণ, তিনি তাদেরকে তাঁর মহা প্রতিদান দিয়েছেন এবং তাদের জন্য তৈরি করেছেন এমন জান্নাতসমূহ যেগুলোর অট্টালিকাসমূহের তলদেশে প্রবাহিত হচ্ছে অনেকগুলো নদী। তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। এ প্রতিদান মূলতঃ মহান সফলতা।
وَمِمَّنۡ حَوۡلَكُم مِّنَ ٱلۡأَعۡرَابِ مُنَٰفِقُونَۖ وَمِنۡ أَهۡلِ ٱلۡمَدِينَةِ مَرَدُواْ عَلَى ٱلنِّفَاقِ لَا تَعۡلَمُهُمۡۖ نَحۡنُ نَعۡلَمُهُمۡۚ سَنُعَذِّبُهُم مَّرَّتَيۡنِ ثُمَّ يُرَدُّونَ إِلَىٰ عَذَابٍ عَظِيمٖ 101
১০১. মদিনার আশপাশের কিছু বেদুঈনও মুনাফিক এবং মদীনার কিছু অধিবাসীও মুনাফিক। যারা মুনাফিকীর উপর অটল ও অবিচল। যাদেরকে হে রাসূল! আপনি চিনেন না, তবে আল্লাহ তাদেরকে চিনেন। তাই তিনি অচিরেই তাদেরকে দু’বার শাস্তি দিবেন। একবার দুনিয়াতে যা তাদের মুনাফিকী প্রকাশ করে এবং তাদেরকে হত্যা ও বন্দী করার কারণ হয়। আরেকবার আখিরাতে কবরের শাস্তির মাধ্যমে। অতঃপর তাদেরকে কিয়ামতের দিবসে জাহান্নামের তলদেশের কঠিন শাস্তির দিকে ঠেলে দেয়া হবে।
وَءَاخَرُونَ ٱعۡتَرَفُواْ بِذُنُوبِهِمۡ خَلَطُواْ عَمَلٗا صَٰلِحٗا وَءَاخَرَ سَيِّئًا عَسَى ٱللَّهُ أَن يَتُوبَ عَلَيۡهِمۡۚ إِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٞ رَّحِيمٌ 102
১০২. মদীনাবাসীদের আরেকটি গোষ্ঠী কোন ওজর ছাড়াই যুদ্ধে যায়নি। তারা নিজেরাও স্বীকার করেছে যে, নিশ্চয়ই তাদের কোন ওজর ছিলো না এবং তারা কোন মিথ্যা ওজরও পেশ করেনি। বরং তারা নিজেদের পূর্বের নেক আমলসমূহ তথা আল্লাহর আনুগত্য করা, তাঁর শরীয়তকে আঁকড়ে ধরা এবং তাঁর পথে জিহাদ করাকে একটি খারাপ আমলের সাথে মিশিয়ে ফেলেছে। তবে তারা আল্লাহর নিকট তাওবা কবুল হওয়া ও ক্ষমার আশা করছে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর তাওবাকারী বান্দার প্রতি অতি ক্ষমাশীল ও অত্যন্ত দয়ালু।
خُذۡ مِنۡ أَمۡوَٰلِهِمۡ صَدَقَةٗ تُطَهِّرُهُمۡ وَتُزَكِّيهِم بِهَا وَصَلِّ عَلَيۡهِمۡۖ إِنَّ صَلَوٰتَكَ سَكَنٞ لَّهُمۡۗ وَٱللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ 103
১০৩. হে রাসূল! আপনি তাদের সম্পদ থেকে যাকাত নিন। যার মাধ্যমে আপনি তাদেরকে গুনাহ ও পাপরাশির ময়লা থেকে পবিত্র করবেন এবং তাদের পুণ্য বাড়িয়ে দিবেন। উপরন্তু তা গ্রহণের পর তাদের জন্য দু‘আ করুন। কারণ, আপনার দু‘আ তাদের জন্য রহমত ও প্রশান্তি স্বরূপ। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা আপনার দু’আ শুনছেন এবং তিনি তাদের কর্মকাণ্ড ও নিয়্যাত সম্পর্কে ভালোই জানেন।
أَلَمۡ يَعۡلَمُوٓاْ أَنَّ ٱللَّهَ هُوَ يَقۡبَلُ ٱلتَّوۡبَةَ عَنۡ عِبَادِهِۦ وَيَأۡخُذُ ٱلصَّدَقَٰتِ وَأَنَّ ٱللَّهَ هُوَ ٱلتَّوَّابُ ٱلرَّحِيمُ 104
১০৪. জিহাদ থেকে পিছপা হওয়া এবং আল্লাহর নিকট তাওবাকারী লোকেরা জেনে রাখুক যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর তাওবাকারী বান্দাদের তাওবা ও সাদাকা কবুল করেন। অথচ তিনি সেগুলোর অমুখাপেক্ষী। তবে তিনি সাদাকাকারীর সাদাকার সাওয়াব দিয়ে দেন। নিশ্চয়ই তিনি তাঁর তাওবাকারী বান্দাদের তাওবা কবুল ও তাদের প্রতি দয়া করেন।
وَقُلِ ٱعۡمَلُواْ فَسَيَرَى ٱللَّهُ عَمَلَكُمۡ وَرَسُولُهُۥ وَٱلۡمُؤۡمِنُونَۖ وَسَتُرَدُّونَ إِلَىٰ عَٰلِمِ ٱلۡغَيۡبِ وَٱلشَّهَٰدَةِ فَيُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمۡ تَعۡمَلُونَ 105
১০৫. হে রাসূল! আপনি জিহাদ থেকে পিছিয়ে পড়া এবং নিজেদের পাপ থেকে তাওবাকারীদেরকে বলে দিন, তোমরা নিজেদের পূর্বের ক্ষতিকে পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা করো এবং নিজেদের আমলগুলো আল্লাহর জন্য নিষ্ঠার সাথে ও তাঁর সন্তুষ্টি মাফিক করো। অচিরেই আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মু’মিনগণ তোমাদের আমলগুলো দেখবেন এবং অচিরেই তোমাদেরকে নিজেদের সর্বজ্ঞ প্রতিপালকের নিকট উত্থিত করা হবে। তিনি তোমাদের প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সবকিছুই জানেন। তাই তিনি অচিরেই তোমাদেরকে তোমাদের দুনিয়ার সমূহ কর্মকাণ্ড জানিয়ে দিবেন এবং তার প্রতিদানও দিবেন।
وَءَاخَرُونَ مُرۡجَوۡنَ لِأَمۡرِ ٱللَّهِ إِمَّا يُعَذِّبُهُمۡ وَإِمَّا يَتُوبُ عَلَيۡهِمۡۗ وَٱللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٞ 106
১০৬. তাবুক যুদ্ধ থেকে পিছিয়ে পড়া আরেকটি গোষ্ঠী রয়েছে। তাদের কোন ওজর ছিলো না। এদের ব্যাপারে অপেক্ষা করতে হবে আল্লাহর বিধান ও ফয়সালার জন্য। তিনি যা চান তাদের ব্যাপারে ফয়সালা করবেন। তারা তাওবা না করলে তিনি তাদেরকে শাস্তি দিবেন। আর তাওবা করলে তাদের তাওবা কবুল করবেন। আল্লাহ তা‘আলা নিশ্চয়ই জানেন, কে তাঁর শাস্তির উপযুক্ত আর কে তাঁর ক্ষমার উপযুক্ত। তিনি তাঁর শরীয়ত ও পরিচালনায় অত্যন্ত প্রজ্ঞাময়। আর তারা হলো, মুরারাহ ইবনুর-রাবী’, কা’ব ইবনু মালিক ও হিলাল ইবনু উমাইয়াহ।
ক. ধর্মের প্রতি দ্রুত অগ্রসর হওয়া, আল্লাহর পথে হিজরত করা, ধর্মের সহযোগিতা করা ও সালাফে সালিহীনের মত ও পন্থা অনুসরণের ফযীলত।
খ. আল্লাহ তা‘আলা গায়েবের জ্ঞানের ব্যাপারটি নিজের জন্য বিশেষভাবে রেখেছেন। তাই কারো অন্তরের ব্যাপার আল্লাহ ছাড়া আর কেউই জানে না।
গ. মু’মিন পাপীদের ব্যাপারে আশা করা যায় যে, তারা তাওবা ও নিজেদের আমলগুলো শুদ্ধ করে নিলে আল্লাহ তা‘আলা তাদের তাওবা কবুল করবেন ও তাদেরকে ক্ষমা করে দিবেন।
ঘ. যাকাতের আবশ্যকতা ও তার ফযীলতের বয়ান উপরন্তু সম্পদ বৃদ্ধি ও কৃপণতা ইত্যাদির দোষ থেকে অন্তরকে পরিচ্ছন্ন করার প্রভাবের বর্ণনা।