أَرَءَيۡتَ إِن كَذَّبَ وَتَوَلَّىٰٓ 13
১৩. তুমি কি লক্ষ্য করেছো, যদি উক্ত বারণকারী রাসূল যা নিয়ে আগমন করেছেন সেটির প্রতি মিথ্যারোপ করে এবং তা থেকে বিমুখ হয়ে যায়?! সে কি আল্লাহকে ভয় করে না?
أَلَمۡ يَعۡلَم بِأَنَّ ٱللَّهَ يَرَىٰ 14
১৪. উক্ত বান্দাকে নামায থেকে বারণকারী কি জানে না যে, আল্লাহ তার আচরণ দেখছেন। তাঁর নিকট কোন কিছুই গোপন নয়।
كَلَّا لَئِن لَّمۡ يَنتَهِ لَنَسۡفَعَۢا بِٱلنَّاصِيَةِ 15
১৫. ব্যাপারটি উক্ত অর্বাচীন যেমনটি মনে করেছে সেরকম নয়। যদি সে আমার বান্দাকে কষ্ট দেয়া ও তাঁর প্রতি মিথ্যারোপ করা থেকে ক্ষান্ত না হয় তাহলে আমি অচিরেই তার সামনের ঝুঁটি শক্ত করে ধরে টেনে-হেঁচড়ে তাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাবো।
نَاصِيَةٖ كَٰذِبَةٍ خَاطِئَةٖ 16
১৬. এ ঝুঁটির অধিকারী নিজ কথায় মিথ্যাবাদী ও আদর্শচ্যুত।
فَلۡيَدۡعُ نَادِيَهُۥ 17
১৭. তাকে যখন তার মাথার ঝুঁটি ধরে জাহান্নামের দিকে টেনে নেয়া হবে তখন সে যেন নিজকে উদ্ধার করার জন্য সহযোগিতার তাগিদে তার সাথী ও বৈঠকের সঙ্গীদেরকে আহ্বান করে।
سَنَدۡعُ ٱلزَّبَانِيَةَ 18
১৮. আমি অচিরেই জাহান্নামের প্রহরী রূঢ় অন্তরের ফিরিশতাদেরকে আহ্বান করবো। যারা নির্দেশ মোতাবিক কাজ করে তথা কোন অন্যথা করে না। তাই সে ভেবে দেখুক কোন পক্ষ বেশী শক্তিশালী।
كَلَّا لَا تُطِعۡهُ وَٱسۡجُدۡۤ وَٱقۡتَرِب۩ 19
১৯. ব্যাপারটি তেমন নয় যেমনটি উক্ত জালিম ধারণা করেছে যে, সে আপনার অনিষ্ট করবে। তাই আপনি তার আদেশ-নিষেধ কোনটারই অনুসরণ করবেন না। বরং আল্লাহর উদ্দেশ্যে সাজদা করুন। আর আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করুন। কেননা, এটিই তাঁর নৈকট্য লাভ করিয়ে দেয়।
سورة মাক্কী
ক্বদর রাতের ফযীলতের বর্ণনা।
إِنَّآ أَنزَلۡنَٰهُ فِي لَيۡلَةِ ٱلۡقَدۡرِ 1
১. নিশ্চয়ই আমি পূর্ণ কুরআন দুনিয়ার আসমানে অবতীর্ণ করেছি। যেমনিভাবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উপর তা অবতরণের সূচনা করেছি রামাযান মাসের মহিমান্বিত রজনীতে।
وَمَآ أَدۡرَىٰكَ مَا لَيۡلَةُ ٱلۡقَدۡرِ 2
২. হে নবী! আপনি কি জানেন, এ রজনীতে কতো কল্যাণ ও বরকত রয়েছে?!
لَيۡلَةُ ٱلۡقَدۡرِ خَيۡرٞ مِّنۡ أَلۡفِ شَهۡرٖ 3
৩. এ রজনী হলো একটি মহা মহিমান্বিত রজনী। তাই সেটি হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। তার জন্য যে ঈমান ও সাওয়াবের আশায় তা পালন করে।
تَنَزَّلُ ٱلۡمَلَٰٓئِكَةُ وَٱلرُّوحُ فِيهَا بِإِذۡنِ رَبِّهِم مِّن كُلِّ أَمۡرٖ 4
৪. সে রজনীতে ফিরিশতাগণ ও জিবরীল (আলাইহিস-সালাম) আল্লাহর নির্দেশে অবতরণ করেন প্রত্যেক ওই সব বিষয় নিয়ে যার ফয়সালা আল্লাহ আগামী বৎসরের জন্য করেছেন। যাতে জীবিকা, জন্ম ও মৃত্যু ইত্যাদি থাকে।
سَلَٰمٌ هِيَ حَتَّىٰ مَطۡلَعِ ٱلۡفَجۡرِ 5
৫. এ বরকতপূর্ণ রজনী শুরু থেকে শেষ তথা ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত পুরোটাই কল্যাণপূর্ণ।
سورة মাদানী
মুহাম্মাদী রিসালাতের সুস্পষ্টতা ও পরিপূর্ণতার বর্ণনা।
لَمۡ يَكُنِ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ مِنۡ أَهۡلِ ٱلۡكِتَٰبِ وَٱلۡمُشۡرِكِينَ مُنفَكِّينَ حَتَّىٰ تَأۡتِيَهُمُ ٱلۡبَيِّنَةُ 1
১. ইহুদি, খ্রিস্টান ও মুশরিক জাতীয় কাফিররা ততক্ষণ পর্যন্ত নিজেদের কুফরীর উপর ঐক্যবদ্ধতা ও জোট পরিহার করবে না যতক্ষণ না তাদের নিকট সুস্পষ্ট দলীল ও প্রমাণাদি উপস্থিত হয়।
رَسُولٞ مِّنَ ٱللَّهِ يَتۡلُواْ صُحُفٗا مُّطَهَّرَةٗ 2
২. এ সুস্পষ্ট দলীল ও প্রমাণ হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত রাসূল। যাঁকে তিনি প্রেরণ করেছেন। যিনি এমন পবিত্র পুস্তিকাসমূহ পাঠ করেন যা পবিত্ররা ব্যতীত অন্য কেউ স্পর্শ করতে পারে না।
فِيهَا كُتُبٞ قَيِّمَةٞ 3
৩. উক্ত পুস্তিকাগুলোতে সত্য সংবাদ ও ন্যায়নিষ্ঠ বিধানসমূহ রয়েছে। যা মানুষকে তাদের কল্যাণ ও সুপথের দিকে আহ্বান করে।
وَمَا تَفَرَّقَ ٱلَّذِينَ أُوتُواْ ٱلۡكِتَٰبَ إِلَّا مِنۢ بَعۡدِ مَا جَآءَتۡهُمُ ٱلۡبَيِّنَةُ 4
৪. বস্তুতঃ তাওরাতপ্রাপ্ত ইহুদি এবং ইঞ্জিলপ্রাপ্ত খ্রিস্টানরা কেবল তখনই মতানৈক্য করেছে যখন তাদের নিকট আল্লাহ তাঁর নবীকে পাঠিয়েছেন। ফলে তাদের মধ্যকার কেউ মুসলমান হয়েছে আবার কেউ তাঁর নবীর সত্যতা জেনেও কুফরীর উপর গোঁড়ামি করেছে।
وَمَآ أُمِرُوٓاْ إِلَّا لِيَعۡبُدُواْ ٱللَّهَ مُخۡلِصِينَ لَهُ ٱلدِّينَ حُنَفَآءَ وَيُقِيمُواْ ٱلصَّلَوٰةَ وَيُؤۡتُواْ ٱلزَّكَوٰةَۚ وَذَٰلِكَ دِينُ ٱلۡقَيِّمَةِ 5
৫. ইহুদি ও খ্রিস্টানদের অপরাধ ও গোঁড়ামি এভাবে প্রকাশ পায় যে, তাদের উদ্দেশ্যে উভয় সম্প্রদায়ের কিতাবে কেবল সে বিষয়েরই নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে বিষয়ের এ কুরআনে নির্দেশ এসেছে তথা এককভাবে আল্লাহর ইবাদত করা, শিরক থেকে বিরত থাকা, নামায প্রতিষ্ঠা করা এবং যাকাত প্রদান করা। বস্তুতঃ যে ব্যাপারে তাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে তাই হলো সরল দীন। যাতে কোনরূপ বক্রতা নেই।
ক. ক্বদর রজনীর মর্যাদা বৎসরের অন্য সব রজনীর উপর প্রতিষ্ঠিত।
খ. ইবাদতে একনিষ্ঠতা তা কবুলের শর্ত।
গ. মৌলিক বিষয়ে ঐকমত্য বার্তাকে গ্রহণযোগ্য করে তোলে।