تَرۡهَقُهَا قَتَرَةٌ 41
৪১. সেগুলোকে কালিমা আচ্ছন্ন করবে।
أُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡكَفَرَةُ ٱلۡفَجَرَةُ 42
৪২. উপরোক্ত অবস্থা হবে তাদের যারা কুফরী ও পাপাচারে লিপ্ত ছিল।
سورة মাক্কী
পুনরুত্থানের সময় সৃষ্টিজগতের পরিবর্তনের কথা মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে কুরআনের পরিপূর্ণতা।
إِذَا ٱلشَّمۡسُ كُوِّرَتۡ 1
১. সূর্য যখন গুটানো হবে ও তার জ্যোতি নিষ্প্রভ হবে।
وَإِذَا ٱلنُّجُومُ ٱنكَدَرَتۡ 2
২. যখন নক্ষত্ররাজি খসে পড়ে তা জ্যোতিহীন হবে।
وَإِذَا ٱلۡجِبَالُ سُيِّرَتۡ 3
৩. পর্বতসমূহকে যখন তার অবস্থান থেকে সরিয়ে দেয়া হবে।
وَإِذَا ٱلۡعِشَارُ عُطِّلَتۡ 4
৪. যখন তাদের সর্বাপেক্ষা প্রিয় সম্পদ পূর্ণগর্ভা উষ্ট্রী উপেক্ষিতা হবে।
وَإِذَا ٱلۡوُحُوشُ حُشِرَتۡ 5
৫. বন্য পশুগুলোকে যখন মানুষের সাথে একই মাঠে সমবেত করা হবে।
وَإِذَا ٱلۡبِحَارُ سُجِّرَتۡ 6
৬. সমুদ্রগুলোকে যখন এমনভাবে প্রজ্জ্বলিত করা হবে যার ফলে সেগুলো অগ্নিতে রূপান্তরিত হবে।
وَإِذَا ٱلنُّفُوسُ زُوِّجَتۡ 7
৭. যখন আত্মাসমূহকে সেগুলোর ন্যায় আত্মাসমূহের সাথে মিলিয়ে দেয়া হবে। তথা পাপিষ্ঠকে পাপিষ্ঠের সাথে এবং আল্লাহভীরুকে আল্লাহভীরুর সাথে মিলানো হবে।
وَإِذَا ٱلۡمَوۡءُۥدَةُ سُئِلَتۡ 8
৮. যখন জীবন্ত প্রোথিত কণ্যা সন্তানকে আল্লাহ জিজ্ঞেস করবেন।
بِأَيِّ ذَنۢبٖ قُتِلَتۡ 9
৯. কোন্ অপরাধে হত্যাকারী তোমাকে হত্যা করেছিলো?!
وَإِذَا ٱلصُّحُفُ نُشِرَتۡ 10
১০. যখন বান্দাদের আমলনামা উম্মোচিত করা হবে। যেন প্রত্যেকে তার নিজ আমলনামা পড়তে পারে।
وَإِذَا ٱلسَّمَآءُ كُشِطَتۡ 11
১১. যখন আসমানের আবরণকে ছাগলের চামড়ার মতো ছাড়ানো হবে।
وَإِذَا ٱلۡجَحِيمُ سُعِّرَتۡ 12
১২. যখন জাহান্নামের অগ্নিকে প্রজ্জ্বলিত করা হবে।
وَإِذَا ٱلۡجَنَّةُ أُزۡلِفَتۡ 13
১৩. জান্নাতকে যখন মুত্তাকীদের উদ্দেশ্যে নিকটবর্তী করা হবে।
عَلِمَتۡ نَفۡسٞ مَّآ أَحۡضَرَتۡ 14
১৪. এ সব যে দিন সংঘটিত হবে সে দিন প্রত্যেকে জানতে পারবে, সে আমল হিসাবে এ দিনের জন্য অগ্রিম কী পাঠিয়েছে।
فَلَآ أُقۡسِمُ بِٱلۡخُنَّسِ 15
১৫. আল্লাহ রাত্রিকালীন সময়ে প্রকাশ পাওয়ার পূর্বে সুপ্ত তারকাসমূহের শপথ করলেন।
ٱلۡجَوَارِ ٱلۡكُنَّسِ 16
১৬. যেগুলো নিজ নিজ আকাশে ফজরের পূর্ব পর্যন্ত চলমান থাকে এবং ফজরের পর নিজ নিজ আশ্রয়স্থলে হরিণের মতো অদৃশ্য হয়।
وَٱلَّيۡلِ إِذَا عَسۡعَسَ 17
১৭. তিনি রাতের আগমনের শুরু ও তার বিদায়ের শেষ ভাগের শপথ করলেন।
وَٱلصُّبۡحِ إِذَا تَنَفَّسَ 18
১৮. তিনি শপথ করলেন প্রভাতের যখন তার আলো বিকশিত হয়।
إِنَّهُۥ لَقَوۡلُ رَسُولٖ كَرِيمٖ 19
১৯. অবশ্যই নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উপর অবতীর্ণ এ কুরআন আল্লাহর কালাম। যা তাঁর নিকট পৌঁছিয়েছেন আল্লাহর বিশ্বস্ত ফিরিশতা জিব্রীল (আলাইহিস-সালাম) আল্লাহ যাকে তার দায়িত্ব দিয়েছেন।
ذِي قُوَّةٍ عِندَ ذِي ٱلۡعَرۡشِ مَكِينٖ 20
২০. যিনি মহা শক্তিধর, আরশের মহান মালিকের নিকট মহা মর্যাদাবান।
مُّطَاعٖ ثَمَّ أَمِينٖ 21
২১. আসমানবাসীরা যাঁর আনুগত্য করে। যিনি ওহী পৌঁছানোর কাজে বিশ্বস্ত।
وَمَا صَاحِبُكُم بِمَجۡنُونٖ 22
২২. তোমাদের নিত্য সাথী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যাঁর বিবেক, আমানতদারিতা ও সততা তোমাদের সামনে সুস্পষ্ট তিনি আদৌ উন্মাদ নন। যেমনটি তোমরা অপবাদ স্বরূপ দাবি করে থাকো।
وَلَقَدۡ رَءَاهُ بِٱلۡأُفُقِ ٱلۡمُبِينِ 23
২৩. তোমাদের সাথী নিশ্চয়ই জিব্রীলকে তাঁর আসল আকৃতিতে আকাশের সুস্পষ্ট দিগন্তে দেখেছেন।
وَمَا هُوَ عَلَى ٱلۡغَيۡبِ بِضَنِينٖ 24
২৪. তিনি তোমাদের নিকট যা পৌঁছে দিতে আদিষ্ট হয়েছেন তা পৌঁছে দেয়ার ব্যাপারে কৃপণ নন। না তিনি এর জন্য কোন প্রতিদান গ্রহণ করেন যেমনটি করে থাকে গণকরা।
وَمَا هُوَ بِقَوۡلِ شَيۡطَٰنٖ رَّجِيمٖ 25
২৫. না এ কুরআন আল্লাহর রহমত থেকে বিতাড়িত শয়তানের বাণী।
فَأَيۡنَ تَذۡهَبُونَ 26
২৬. সুতরাং এতো সব প্রমাণের পরও তোমরা এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ নয় বলে অস্বীকৃতির আর কোন্ পথ অবলম্বন করবে?!
إِنۡ هُوَ إِلَّا ذِكۡرٞ لِّلۡعَٰلَمِينَ 27
২৭. কুরআন তো কেবল জিন ও ইনসানের উদ্দেশ্যে উপদেশ ও সতর্কবাণী।
لِمَن شَآءَ مِنكُمۡ أَن يَسۡتَقِيمَ 28
২৮. তোমাদের মধ্যকার যে ব্যক্তি সত্যের পথে থাকতে ইচ্ছুক তার উদ্দেশ্যে।
وَمَا تَشَآءُونَ إِلَّآ أَن يَشَآءَ ٱللَّهُ رَبُّ ٱلۡعَٰلَمِينَ 29
২৯. তোমরা সরল পথে চলা কিংবা না চলা কোনটারই ইচ্ছা করতে পারো না যদি সকল সৃষ্টির প্রতিপালক আল্লাহ তা না চান।
ক. মানুষকে তার মতো ভালো কিংবা খারাপ মানুষের সাথে হাশর করা হবে।
খ. যদি জীবন্ত প্রোথিত কন্যাকে জিজ্ঞেস করা হয় তাহলে যে তাকে প্রোথিত করেছে তার কী অবস্থা হবে? এটি পরিস্থিতির ভয়াবহতার প্রমাণ।
গ. বান্দাহর ইচ্ছা আল্লাহর ইচ্ছাধীন।