عَلَىٰٓ أَن نُّبَدِّلَ خَيۡرٗا مِّنۡهُمۡ وَمَا نَحۡنُ بِمَسۡبُوقِينَ 41
৪১. বস্তুতঃ আমি তাদেরকে আল্লাহর অনুগতদের মাধ্যমে পরিবর্তন করে তাদেরকে ধ্বংস করতে অপারগ নই। আর আমি অন্যদের দ্বারা তাদেরকে পরিবর্তন করতে চাইলে কিংবা তাদেরকে ধ্বংস করতে চাইলে একাজে আমাকে পরাস্তকারী কেউ নেই।
فَذَرۡهُمۡ يَخُوضُواْ وَيَلۡعَبُواْ حَتَّىٰ يُلَٰقُواْ يَوۡمَهُمُ ٱلَّذِي يُوعَدُونَ 42
৪২. অতএব, হে রাসূল! আপনি তাদেরকে ওদের বাতিল ও ভ্রষ্টতায় ছেড়ে দিন। তারা নিজেদের দুনিয়ার জীবনে খেল-তামাশা করতে থাকুক। অবশেষে কুরআনে বর্ণিত কৃত অঙ্গীকার অনুযায়ী তারা কিয়ামত দিবসের সাথে সাক্ষাত করবে।
يَوۡمَ يَخۡرُجُونَ مِنَ ٱلۡأَجۡدَاثِ سِرَاعٗا كَأَنَّهُمۡ إِلَىٰ نُصُبٖ يُوفِضُونَ 43
৪৩. সে দিন তারা কবর থেকে এমনভাবে দ্রুত বেরিয়ে পড়বে যেন তারা কোন নিশানার দিকে প্রতিযোগিতামূলকভাবে অগ্রসর হচ্ছে।
خَٰشِعَةً أَبۡصَٰرُهُمۡ تَرۡهَقُهُمۡ ذِلَّةٞۚ ذَٰلِكَ ٱلۡيَوۡمُ ٱلَّذِي كَانُواْ يُوعَدُونَ 44
৪৪. চোখ নিচু করে। সেগুলোকে তখন লাঞ্ছনা ঘিরে রাখবে। এ হলো সে দিন যে দিনের ব্যাপারে তাদের সাথে অঙ্গীকার করা হয়েছে। অথচ তারা এ ব্যাপারে কোন পরওয়াই করতো না।
سورة মাক্কী
নূহ (আলাইহিস-সালাম) এর কাহিনী বিশ্লেষণের মাধ্যমে দা‘ঈদের জন্য দাওয়াতী কর্মপন্থার বর্ণনা।
إِنَّآ أَرۡسَلۡنَا نُوحًا إِلَىٰ قَوۡمِهِۦٓ أَنۡ أَنذِرۡ قَوۡمَكَ مِن قَبۡلِ أَن يَأۡتِيَهُمۡ عَذَابٌ أَلِيمٞ 1
১. আমি নূহ (আলাইহিস-সালাম) কে নিজ সম্প্রদায়ের নিকট তাদেরকে দা’ওয়াত দেয়ার জন্য প্রেরণ করেছি। যাতে আল্লাহর সাথে শিরক করার কারণে তাদের নিকট কষ্টদায়ক শাস্তি আগমনের পূর্বেই তিনি তাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করতে পারেন।
قَالَ يَٰقَوۡمِ إِنِّي لَكُمۡ نَذِيرٞ مُّبِينٌ 2
২. নূহ (আলাইহিস-সালাম) তাঁর জাতিকে বললেন: হে আমার জাতি! তোমরা যদি তাওবা না করো তাহলে আমি তোমাদেরকে অপেক্ষমাণ শাস্তির ব্যাপারে সতর্ক-সংকেত দিচ্ছি।
أَنِ ٱعۡبُدُواْ ٱللَّهَ وَٱتَّقُوهُ وَأَطِيعُونِ 3
৩. তোমাদেরকে আমার সতর্ক করার দাবী এই যে, আমি যেন তোমাদেরকে বলি: তোমরা এককভাবে আল্লাহর ইবাদত করো। তাঁর সাথে কাউকে শরীক করো না। উপরন্তু তাঁর আদেশ-নিষেধ মান্য করার মাধ্যমে তাঁকে ভয় করো। আমি তোমাদেরকে যে বিষয়ে নির্দেশ করি তার অনুসরণ করো।
يَغۡفِرۡ لَكُم مِّن ذُنُوبِكُمۡ وَيُؤَخِّرۡكُمۡ إِلَىٰٓ أَجَلٖ مُّسَمًّىۚ إِنَّ أَجَلَ ٱللَّهِ إِذَا جَآءَ لَا يُؤَخَّرُۚ لَوۡ كُنتُمۡ تَعۡلَمُونَ 4
৪. যে পর্যন্ত তোমরা এ কাজ করবে ততক্ষণ তিনি বান্দাদের অধিকার ব্যতীত তোমাদের সকল পাপ ক্ষমা করবেন। আর তোমাদের জাতির আয়ু আল্লাহর জ্ঞানে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত দীর্ঘায়ু করবেন। তোমরা এ আদর্শে অটল থাকা পর্যন্ত জমিন আবাদ করতে থাকবে। বস্তুতঃ মৃত্যু যখন আসবে তখন তা আর পেছানো যাবে না। তোমরা যদি জানতে তাহলে আল্লাহর উপর ঈমান আনা এবং শিরক ও ভ্রষ্টতা থেকে তাওবা করার প্রতি দ্রুত অগ্রসর হতে।
قَالَ رَبِّ إِنِّي دَعَوۡتُ قَوۡمِي لَيۡلٗا وَنَهَارٗا 5
৫. নূহ বললেন: হে আমার প্রতিপালক! আমি নিজ জাতিকে আপনার ইবাদত ও একত্ববাদের প্রতি দিন-রাত অবিরত আহ্বান করেছি।
فَلَمۡ يَزِدۡهُمۡ دُعَآءِيٓ إِلَّا فِرَارٗا 6
৬. তবে তাদেরকে আমার আহ্বান আহ্বানকৃত বিষয় থেকে কেবল দূরেই ঠেলে দিয়েছে।
وَإِنِّي كُلَّمَا دَعَوۡتُهُمۡ لِتَغۡفِرَ لَهُمۡ جَعَلُوٓاْ أَصَٰبِعَهُمۡ فِيٓ ءَاذَانِهِمۡ وَٱسۡتَغۡشَوۡاْ ثِيَابَهُمۡ وَأَصَرُّواْ وَٱسۡتَكۡبَرُواْ ٱسۡتِكۡبَارٗا 7
৭. আমি যখনই তাদেরকে তাদের পাপসমূহ ক্ষমার উপাদান তথা এককভাবে আপনার ইবাদত এবং আপনার ও আপনার রাসূলের আনুগত্যের প্রতি আহ্বান করেছি তখনই তারা আমার আহ্বান শ্রবণ না করার উদ্দেশ্যে নিজেদের অঙ্গুলি দিয়ে তাদের কান বন্ধ করে দিয়েছে এবং আমাকে যেন না দেখতে পায় সে জন্য নিজেদের কাপড় দিয়ে তাদের চেহারাগুলো ঢেকে দিয়েছে। উপরন্তু তারা নিজেদের লালিত শিরকের উপর অটল থেকেছে। সর্বোপরি আমি তাদেরকে যে বিষয়ের দিকে আহ্বান করেছি তা গ্রহণ করা ও এর আনুগত্য করা থেকে অহঙ্কার প্রদর্শনমূলক দূরে থেকেছে।
ثُمَّ إِنِّي دَعَوۡتُهُمۡ جِهَارٗا 8
৮. অতঃপর হে আমার প্রতিপালক! আমি তাদেরকে প্রকাশ্যে আহ্বান করেছি।
ثُمَّ إِنِّيٓ أَعۡلَنتُ لَهُمۡ وَأَسۡرَرۡتُ لَهُمۡ إِسۡرَارٗا 9
৯. অতঃপর আমি তাদের উদ্দেশ্যে দাওয়াতের পদ্ধতিকে বিভিন্নরূপী করেছি। আহ্বানের স্বর কখনো উঁচু আবার কখনো নিচু করেছি এবং তাদেরকে কোমল স্বরে আহ্বান জানিয়েছি।
فَقُلۡتُ ٱسۡتَغۡفِرُواْ رَبَّكُمۡ إِنَّهُۥ كَانَ غَفَّارٗا 10
১০. তাই তো আমি তাদেরকে বললাম, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা নিজেদের রবের কাছে তাওবা করে তাঁর ক্ষমা চাও। কেননা, তিনি নিজ বান্দাদের মধ্যকার যারা তাঁর নিকট ক্ষমা চায় তাদেরকে প্রচুর পরিমাণে অনেক ক্ষমাকারী।
ক. পরকাল থেকে উদাসীন থাকার ভয়াহতা।
খ. আল্লাহর ইবাদত ও তাঁর ভয় গুনাহ মাফের কারণ।
গ. দাওয়াতে অবিচল থাকা এবং এর পদ্ধতিকে বিভিন্নরূপী করে তোলা দাঈদের কর্তব্য।