وَلَا طَعَامٌ إِلَّا مِنۡ غِسۡلِينٖ 36
৩৬. তার খাবারের জন্য জাহান্নামীদের শরীরের পুঁজ ব্যতীত অন্য কোন খাদ্য থাকবে না।
لَّا يَأۡكُلُهُۥٓ إِلَّا ٱلۡخَٰطُِٔونَ 37
৩৭. এ সব খাবার পাপাচারী ও অবাধ্যজন ব্যতীত অন্য কেউ ভক্ষণ করবে না।
فَلَآ أُقۡسِمُ بِمَا تُبۡصِرُونَ 38
৩৮. আল্লাহ দৃশ্যমান বস্তুর শপথ করলেন।
وَمَا لَا تُبۡصِرُونَ 39
৩৯. তিনি আরো শপথ করলেন সে সব বস্তুর যা তোমরা দেখো না।
إِنَّهُۥ لَقَوۡلُ رَسُولٖ كَرِيمٖ 40
৪০. নিশ্চয়ই কুরআন আল্লাহর কালাম। যা তদীয় সম্মানিত রাসূল মানুষের সামনে তিলাওয়াত করেন।
وَمَا هُوَ بِقَوۡلِ شَاعِرٖۚ قَلِيلٗا مَّا تُؤۡمِنُونَ 41
৪১. এটি কোন কবির কথা নয়। কেননা, এটিকে কবিতার ছন্দে সাজানো হয় নি। এরপরও তোমাদের মধ্যকার অল্প সংখ্যক লোকই ঈমান গ্রহণ করে থাকে।
وَلَا بِقَوۡلِ كَاهِنٖۚ قَلِيلٗا مَّا تَذَكَّرُونَ 42
৪২. না এটি কোন গণকের কথা। কেননা, গণকদের কথা এর বিপরীত। এরপরও তোমাদের মধ্যকার অল্প সংখ্যক লোকই উপদেশ গ্রহণ করে থাকে।
تَنزِيلٞ مِّن رَّبِّ ٱلۡعَٰلَمِينَ 43
৪৩. বরং এটি সকল মাখলুকের প্রতিপালক আল্লাহর পক্ষ থেকেই অবতীর্ণ।
وَلَوۡ تَقَوَّلَ عَلَيۡنَا بَعۡضَ ٱلۡأَقَاوِيلِ 44
৪৪. যদি মুহাম্মদ আমার ব্যাপারে এমন কিছু বানিয়ে বলে যা আমি বলি নি।
لَأَخَذۡنَا مِنۡهُ بِٱلۡيَمِينِ 45
৪৫. তাহলে আমি এর প্রতিশোধ নেবো এবং স্বীয় ক্ষমতাবলে আমি তাঁকে শক্তভাবে পাকড়াও করবো।
ثُمَّ لَقَطَعۡنَا مِنۡهُ ٱلۡوَتِينَ 46
৪৬. অতঃপর তার অন্তরের সাথে সম্পর্কিত রগ কেটে ফেলবো।
فَمَا مِنكُم مِّنۡ أَحَدٍ عَنۡهُ حَٰجِزِينَ 47
৪৭. ফলে তোমাদের কেউ আমাকে তাঁর থেকে বারণকারী হবে না। তাই তোমাদের উদ্দেশ্যে আমার নামে মিথ্যা রটনা করা তাঁর পক্ষে দুরূহ ব্যাপার।
وَإِنَّهُۥ لَتَذۡكِرَةٞ لِّلۡمُتَّقِينَ 48
৪৮. বস্তুতঃ কুরআন আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকে ভয় করে চলা মুত্তাকীদের জন্যই উপদেশ।
وَإِنَّا لَنَعۡلَمُ أَنَّ مِنكُم مُّكَذِّبِينَ 49
৪৯. আমি অবশ্যই জানি, তোমাদের মাঝে এমন লোকও রয়েছে যে এ কুরআনের প্রতি মিথ্যারোপ করে।
وَإِنَّهُۥ لَحَسۡرَةٌ عَلَى ٱلۡكَٰفِرِينَ 50
৫০. বস্তুতঃ কুরআনকে অবিশ্বাস করা কিয়ামত দিবসে মহা অপমানের কারণ।
وَإِنَّهُۥ لَحَقُّ ٱلۡيَقِينِ 51
৫১. কুরআন এমন এক দৃঢ়তর সত্য যা আল্লাহর পক্ষ থেকে আসার ব্যাপারে কোন সন্দেহ কিংবা সংশয় নেই।
فَسَبِّحۡ بِٱسۡمِ رَبِّكَ ٱلۡعَظِيمِ 52
৫২. তাই হে রাসূল! আপনি নিজ প্রতিপালককে তাঁর সাথে বেমানন সব কিছু থেকে পবিত্র ঘোষণা এবং আপনার মহান প্রতিপালকের নাম স্মরণ করুন।
سورة মাক্কী
কিয়ামতের দিন আল্লাহর সৃষ্টির প্রতিদান ও তাদের অবস্থার বর্ণনা।
سَأَلَ سَآئِلُۢ بِعَذَابٖ وَاقِعٖ 1
১. একজন মুশরিক তার নিজের ও তার জাতির জন্য শাস্তির বদদু‘আ করলো, বাস্তবে যদি তা সত্যি হয়ে থাকে। মূলতঃ এটি তার পক্ষ থেকে ঠাট্টামাত্র। অথচ কিয়ামত দিবসে তা সংঘটিত হবেই।
لِّلۡكَٰفِرِينَ لَيۡسَ لَهُۥ دَافِعٞ 2
২. যা আল্লাহকে অবিশ্বাসীদের জন্য অবধারিত। যে শাস্তিকে প্রতিহত করার কেউ নেই।
مِّنَ ٱللَّهِ ذِي ٱلۡمَعَارِجِ 3
৩. এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে। যিনি উচ্চাসন, মর্যাদা, অনুগ্রহ ও নিয়ামতসমূহের মালিক।
تَعۡرُجُ ٱلۡمَلَٰٓئِكَةُ وَٱلرُّوحُ إِلَيۡهِ فِي يَوۡمٖ كَانَ مِقۡدَارُهُۥ خَمۡسِينَ أَلۡفَ سَنَةٖ 4
৪. তাঁর প্রতি ফিরিশতাগণ ও জিবরীল কিয়ামত দিবসে এ সব সিঁড়ি বেয়ে আরোহণ করবেন। যে দিবসটি পঞ্চাশ হাজার বছর সমপরিমাণ দীর্ঘ হবে।
فَٱصۡبِرۡ صَبۡرٗا جَمِيلًا 5
৫. তাই হে রাসূল! আপনি ধৈর্য ধারণ করুন। যাতে কোনরূপ হাহুতাশ কিংবা অভিযোগ থাকবে না।
إِنَّهُمۡ يَرَوۡنَهُۥ بَعِيدٗا 6
৬. তারা শাস্তি সংঘটিত হওয়াকে দূরবর্তী ও অসম্ভব মনে করে থাকে।
وَنَرَىٰهُ قَرِيبٗا 7
৭. আর আমি সেটিকে নিকটবর্তী ও অবশ্যম্ভাবী বলে দেখি।
يَوۡمَ تَكُونُ ٱلسَّمَآءُ كَٱلۡمُهۡلِ 8
৮. সে দিন আকাশ বিগলিত তামা ও সোনা ইত্যাদির মতো হবে।
وَتَكُونُ ٱلۡجِبَالُ كَٱلۡعِهۡنِ 9
৯. আর পাহাড়সমূহ পশমের মতো হালকা হয়ে যাবে।
وَلَا يَسَۡٔلُ حَمِيمٌ حَمِيمٗا 10
১০. কোন নিকটাত্মীয় আপনজনের কথা জিজ্ঞেস করবে না। কেননা, প্রত্যেকেই নিজকে নিয়ে ব্যস্ত থাকবে।
ক. কুরআনকে কবিতা ও জ্যোতির্বিদ্যা থেকে মুক্ত ঘোষণা করা।
খ. মহান আল্লাহর উপর মিথ্যারোপ ও বানিয়ে কথা বলার ভয়াবহতা।
গ. সুন্দরভাবে ধৈর্য ধারণ করা। যাতে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রতিদানের আশা রাখবে এবং অন্য কারো নিকট অভিযোগ করবে না।