خَٰشِعَةً أَبۡصَٰرُهُمۡ تَرۡهَقُهُمۡ ذِلَّةٞۖ وَقَدۡ كَانُواْ يُدۡعَوۡنَ إِلَى ٱلسُّجُودِ وَهُمۡ سَٰلِمُونَ 43
৪৩. তাদের চক্ষু অবনমিত। তাদেরকে অপমান ও লজ্জা ঘিরে রাখবে। অথচ যখন তাদেরকে দুনিয়াতে সাজদা করার দিকে আহ্বান করা হয় তখন তারা আজকের তুলনায় অনেক নিরাপদ অবস্থায় ছিলো।
فَذَرۡنِي وَمَن يُكَذِّبُ بِهَٰذَا ٱلۡحَدِيثِۖ سَنَسۡتَدۡرِجُهُم مِّنۡ حَيۡثُ لَا يَعۡلَمُونَ 44
৪৪. তাই হে রাসূল! যারা আপনার উপর অবতীর্ণ এ কুরআনের প্রতি মিথ্যারোপ করে আপনি তাদেরকে আমার নিকট ন্যস্ত করুন। আমি অচিরেই তাদেরকে এক এক স্তর করে শাস্তির দিকে নিয়ে যাবো। অথচ এটি যে তাদের ব্যাপারে কৌশল মাত্র এবং ক্রমে ক্রমে তাদেরকে পাকড়াও করা হচ্ছে তারা তা বুঝেই না।
وَأُمۡلِي لَهُمۡۚ إِنَّ كَيۡدِي مَتِينٌ 45
৪৫. আমি তাদেরকে কিছু কাল পর্যন্ত অবকাশ দেই। যাতে তারা নিজেদের অবাধ্যতায় ঘুরপাক খেতে থাকে। নিশ্চয়ই কাফির ও মিথ্যারোপকারীদের জন্য আমার কৌশল অতি শক্তিশালী। ফলে তারা না আমার থেকে পার পাবে। আর না আমার শাস্তি থেকে নিরাপদ থাকতে পারবে।
أَمۡ تَسَۡٔلُهُمۡ أَجۡرٗا فَهُم مِّن مَّغۡرَمٖ مُّثۡقَلُونَ 46
৪৬. হে রাসূল! আপনি কি তাদের নিকট তাদেরকে সত্যের দিকে আহ্বানের বিনিময়ে কোন প্রতিদান কামনা করেন। যার ফলে তারা এক মহা বোঝা বহন করে চলছে এবং এটি আপনার থেকে বিমুখ হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে?! অথচ বাস্তবতা এর বিপরীত। কেননা, আপনি তাদের নিকট কোন প্রতিদান চান না। তাই আপনার অনুসরণে তাদের বাধা কোথায়?!
أَمۡ عِندَهُمُ ٱلۡغَيۡبُ فَهُمۡ يَكۡتُبُونَ 47
৪৭. না কি তাদের নিকট গায়েবের জ্ঞান রয়েছে। ফলে তারা নিজেদের পছন্দ মতো এমন কিছু প্রমাণাদি লিখে যদ্বারা তারা আপনার সাথে বিতর্ক করে?!
فَٱصۡبِرۡ لِحُكۡمِ رَبِّكَ وَلَا تَكُن كَصَاحِبِ ٱلۡحُوتِ إِذۡ نَادَىٰ وَهُوَ مَكۡظُومٞ 48
৪৮. অতএব, হে রাসূল! আপনার প্রতিপালক তাদেরকে অবকাশ দেয়ার যে ফয়সালা গ্রহণ করেছেন আপনি তাতে ধৈর্য ধারণ করুন। আর আপনি মাছের পেটে যাওয়া ইউনুস (আলাইহিস সালাম)এর মতো হবেন না। যিনি নিজ জাতির উপর ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন। তখন সমুদ্র ও মাছের পেটের অন্ধকারে বিপদগ্রস্ত হয়ে নিজ প্রতিপালককে ডাক দেন।
لَّوۡلَآ أَن تَدَٰرَكَهُۥ نِعۡمَةٞ مِّن رَّبِّهِۦ لَنُبِذَ بِٱلۡعَرَآءِ وَهُوَ مَذۡمُومٞ 49
৪৯. যদি আল্লাহর রহমত না থাকতো তাহলে মাছ তাঁকে মরুভূমিতে নিন্দিত অবস্থায় নিক্ষেপ করতো।
فَٱجۡتَبَٰهُ رَبُّهُۥ فَجَعَلَهُۥ مِنَ ٱلصَّٰلِحِينَ 50
৫০. তখন তাঁর প্রতিপালক তাঁকে নির্বাচন করলেন। এমনকি তিনি তাঁকে নিজ নেক বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করলেন।
وَإِن يَكَادُ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ لَيُزۡلِقُونَكَ بِأَبۡصَٰرِهِمۡ لَمَّا سَمِعُواْ ٱلذِّكۡرَ وَيَقُولُونَ إِنَّهُۥ لَمَجۡنُونٞ 51
৫১. আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অস্বীকারকারী কাফিররা যখন আপনার উপর অবতীর্ণ কুরআন শ্রবণ করে তখন তারা যেন চায়, নিজেদের দৃষ্টির প্রখরতা দিয়ে আপনাকে ধরাশায়ী করে ফেলে এবং তারা নিজেদের প্রবৃত্তির অনুসরণ ও সত্য থেকে বিমুখ হয়ে বলে: যে রাসূল এটি নিয়ে এসেছেন তিনি অবশ্যই পাগল।
وَمَا هُوَ إِلَّا ذِكۡرٞ لِّلۡعَٰلَمِينَ 52
৫২. বস্তুতঃ আপনার উপর অবতীর্ণ কুরআন তো কেবল মানব ও দানবের জন্য একটি উপদেশ ও স্মরণিকা মাত্র।
سورة মাক্কী
কিয়ামত সংঘটিত হওয়া এবং সে দিনের প্রতিদান নিঃসন্দেহে এক অকাট্য সত্য হওয়া প্রমাণিত করা।
ٱلۡحَآقَّةُ 1
১. আল্লাহ পুনরুত্থানের এমন সময়ের কথা উল্লেখ করছেন যা সবার জন্য অবধারিত।
مَا ٱلۡحَآقَّةُ 2
২. অতঃপর তিনি এ বিষয়ের ভয়াবহতার মাত্রা বৃদ্ধি করতঃ বলেন, অবধারিত ব্যাপারটি কী?
وَمَآ أَدۡرَىٰكَ مَا ٱلۡحَآقَّةُ 3
৩. আর আপনাকে কে জানাবে, অবধারিত বিষয়টি কী?
كَذَّبَتۡ ثَمُودُ وَعَادُۢ بِٱلۡقَارِعَةِ 4
৪. সালেহ (আলাইহিস-সালাম) এর সম্প্রদায় সামূদ মিথ্যারোপ করেছে। আরো মিথ্যারোপ করেছে হূদ (আলাইহিস-সালাম) এর সম্প্রদায় আদ সেই কিয়ামতকে যা তার বিভীষিকা দিয়ে মানুষের কানে বিকট শব্দ করবে।
فَأَمَّا ثَمُودُ فَأُهۡلِكُواْ بِٱلطَّاغِيَةِ 5
৫. সামূদ সম্প্রদায়কে আল্লাহ চূড়ান্ত পর্যায়ের বিকট ও ভয়ানক ধ্বনি দিয়ে ধ্বংস করে দিয়েছেন।
وَأَمَّا عَادٞ فَأُهۡلِكُواْ بِرِيحٖ صَرۡصَرٍ عَاتِيَةٖ 6
৬. আর আদ সম্প্রদায়কে আল্লাহ প্রচণ্ড ও কঠিন প্রকারের শৈত্য আবহাওয়া দিয়ে বিনাশ করে দিয়েছেন।
سَخَّرَهَا عَلَيۡهِمۡ سَبۡعَ لَيَالٖ وَثَمَٰنِيَةَ أَيَّامٍ حُسُومٗاۖ فَتَرَى ٱلۡقَوۡمَ فِيهَا صَرۡعَىٰ كَأَنَّهُمۡ أَعۡجَازُ نَخۡلٍ خَاوِيَةٖ 7
৭. আল্লাহ তাদের উপর সাত রাত ও আট দিনের জন্য তা প্রেরণ করেন। যা তাদেরকে সমূলে উৎপাটন করে দেয়। ফলে আপনি তাদেরকে দেখতে পাবেন, তারা নিজেদের ভূমিতে ধ্বংস ও আছাড় খেয়ে পড়ে আছে। ধ্বংসের পর তারা যেন পুরনো খেজুর বৃক্ষের শিকড়ের ন্যায় পড়ে আছে।
فَهَلۡ تَرَىٰ لَهُم مِّنۢ بَاقِيَةٖ 8
৮. তাদেরকে শাস্তি দেয়ার পর আপনি কি তাদের কাউকে অবশিষ্ট দেখতে পাচ্ছেন?!
ক. ধৈর্য একটি প্রশংসনীয় স্বভাব যা আল্লাহর প্রতি আহ্বানকারী ও অন্যান্যদের জন্য অতি প্রয়োজনীয়।
খ. তাওবা এর পূর্বের পাপসমূহ মোচন করে। যা আল্লাহ কর্তৃক বান্দাকে চয়ন করার উপায় এবং এটি তাকে আল্লাহর নেক বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করে।
গ. আল্লাহ কাফির ও অবাধ্যদের উপর বিভিন্নরূপী যে সব শাস্তি প্রেরণ করেন তাতে তাঁর ক্ষমতা ও ইনসাফের পূর্ণতার প্রমাণ নিহিত রয়েছে।