سورة মাদানী
রাসূল প্রেরণের মাধ্যমে এ উম্মতকে মর্যাদা প্রদানের ব্যাপারে তাদেরকে অনুগ্রহের তুলনা দেয়া এবং জুমার দিনের ফযীলতের বর্ণনা।
يُسَبِّحُ لِلَّهِ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِي ٱلۡأَرۡضِ ٱلۡمَلِكِ ٱلۡقُدُّوسِ ٱلۡعَزِيزِ ٱلۡحَكِيمِ 1
১. সৃষ্টিকুলের যা কিছু আসমান ও জমিনে রয়েছে তারা সবাই আল্লাহকে সর্ব প্রকার ত্রুটি ও বেমানান বস্তু থেকে মুক্ত ও পবিত্র ঘোষণা করছে। তিনি একক বাদশাহ ও সর্ব প্রকার ত্রুটি থেকে পবিত্র। তিনি এমন প্রতাপশালী যাকে কেউ পরাস্ত করতে পারে না। তিনি তাঁর সৃষ্টি, বিধান ও ফয়সালায় প্রজ্ঞাবান।
هُوَ ٱلَّذِي بَعَثَ فِي ٱلۡأُمِّيِّۧنَ رَسُولٗا مِّنۡهُمۡ يَتۡلُواْ عَلَيۡهِمۡ ءَايَٰتِهِۦ وَيُزَكِّيهِمۡ وَيُعَلِّمُهُمُ ٱلۡكِتَٰبَ وَٱلۡحِكۡمَةَ وَإِن كَانُواْ مِن قَبۡلُ لَفِي ضَلَٰلٖ مُّبِينٖ 2
২. তিনি সে সব আরবীর নিকট তাদের মধ্যকার একজন রাসূল প্রেরণ করেন যারা পড়তে ও লিখতে জানে না। তিনি তাদের সামনে তাঁর উপর প্রেরিত আয়াতগুলো পাঠ করেন এবং তাদেরকে কুফরী ও মন্দ চরিত্র থেকে পরিচ্ছন্ন করেন। উপরন্তু তিনি তাদেরকে কুরআন ও সুন্নাহর জ্ঞান শিক্ষা দেন। যদিও বা তারা ইতিপূর্বে হক থেকে সুস্পষ্ট ভ্রান্তির মধ্যে নিমজ্জিত ছিলো। যেহেতু তারা মূর্তি পূজা করতো, অন্যের রক্ত প্রবাহিত করতো ও জ্ঞাতি-বন্ধন ছিন্ন করতো।
وَءَاخَرِينَ مِنۡهُمۡ لَمَّا يَلۡحَقُواْ بِهِمۡۚ وَهُوَ ٱلۡعَزِيزُ ٱلۡحَكِيمُ 3
৩. তিনি এ রাসূলকে পরবর্তীতে আগত আরব-অনারব সহ অন্যান্য জাতির নিকটও প্রেরণ করেছেন। তিনি এমন পরাক্রমশালী যাঁকে কেউ পরাস্ত করতে পারে না। তিনি তাঁর সৃষ্টি, বিধান ও ফয়সালায় প্রজ্ঞাবান।
ذَٰلِكَ فَضۡلُ ٱللَّهِ يُؤۡتِيهِ مَن يَشَآءُۚ وَٱللَّهُ ذُو ٱلۡفَضۡلِ ٱلۡعَظِيمِ 4
৪. উপরোল্লিখিত বিষয় যা হলো রাসূলকে আরব-অনারব সবার নিকট প্রেরণ করা এটি মূলতঃ আল্লাহর অনুগ্রহ। তিনি যাকে ইচ্ছা তা প্রদান করেন। বস্তুতঃ আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল। তাঁর এ মহা অনুগ্রহের মধ্যে রয়েছে এ উম্মতের রাসূলকে গোটা মানব জাতির নিকট প্রেরণ করা।
আল্লাহ যখন রাসূল প্রেরণ ও কুরআন অবতারণের মাধ্যমে নিজ অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করলেন তখন তিনি মূসা (আলাইহিস-সালাম) এর কিছু উম্মত যারা তাওরাতের উপর আমল করা থেকে বিমুখ ছিল তাদের কথা উল্লেখ করলেন। এ উম্মতকে তাদের পথ অবলম্বন করা থেকে সতর্ক করতেই তিনি তা করেন। তিনি বলেন:
مَثَلُ ٱلَّذِينَ حُمِّلُواْ ٱلتَّوۡرَىٰةَ ثُمَّ لَمۡ يَحۡمِلُوهَا كَمَثَلِ ٱلۡحِمَارِ يَحۡمِلُ أَسۡفَارَۢاۚ بِئۡسَ مَثَلُ ٱلۡقَوۡمِ ٱلَّذِينَ كَذَّبُواْ بَِٔايَٰتِ ٱللَّهِۚ وَٱللَّهُ لَا يَهۡدِي ٱلۡقَوۡمَ ٱلظَّٰلِمِينَ 5
৫. যে সব ইহুদিকে তাওরাত মানতে বাধ্য করার পর তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে তাদের উদাহরণ হলো ওই গাধার ন্যায় যে বড় বড় কিতাবাদি বহন করে। অথচ তার উপর কী চাপানো হয়েছে সে সেই ব্যাপারে কিছুই জানে না। এটি কি কিতাবাদি, না অন্য কিছু? যে জাতি আল্লাহর আয়াতগুলো অস্বীকার করে তার দৃষ্টান্ত অতি নিকৃষ্ট। বস্তুতঃ আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে হকের পথ দেখান না।
قُلۡ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ هَادُوٓاْ إِن زَعَمۡتُمۡ أَنَّكُمۡ أَوۡلِيَآءُ لِلَّهِ مِن دُونِ ٱلنَّاسِ فَتَمَنَّوُاْ ٱلۡمَوۡتَ إِن كُنتُمۡ صَٰدِقِينَ 6
৬. হে রাসূল! আপনি বলুন, হে তোমরা যারা তাওরাত বিকৃত হওয়ার পরও ইহুদি ধর্মের উপর অটল রয়েছো তোমরা যদি ধারণা করো যে, তোমরা অন্য লোকদের তুলনায় আল্লাহর বিশেষ আপন কেউ তাহলে তোমরা মৃত্যু কামনা করো। যাতে তোমাদের ধারণা অনুযায়ী তোমাদের উদ্দেশ্যে সম্মাননার বিশেষিত বিষয় ত্বরান্বিত করা হয়। যদি তোমরা এ দাবিতে সত্যবাদী হয়ে থাকো যে, তোমরা অন্যদের তুলনায় আল্লাহর একান্ত আপন।
وَلَا يَتَمَنَّوۡنَهُۥٓ أَبَدَۢا بِمَا قَدَّمَتۡ أَيۡدِيهِمۡۚ وَٱللَّهُ عَلِيمُۢ بِٱلظَّٰلِمِينَ 7
৭. বস্তুতঃ তারা আদৌ মৃত্যু কামনা করবে না। বরং তারা নিজেদের কৃত পাপ, কুফরী, জুলুম এবং তাওরাতকে বিকৃত ও পরিবর্তন করার কারণে দুনিয়াতে চিরস্থায়ীভাবে থাকা কামনা করবে। বস্তুতঃ আল্লাহ জালিমদের ব্যাপারে সম্যক অবগত। তাঁর নিকট তাদের কোন আমলই গোপন থাকে না এবং তিনি এর উপর তাদেরকে প্রতিদান দিবেন।
قُلۡ إِنَّ ٱلۡمَوۡتَ ٱلَّذِي تَفِرُّونَ مِنۡهُ فَإِنَّهُۥ مُلَٰقِيكُمۡۖ ثُمَّ تُرَدُّونَ إِلَىٰ عَٰلِمِ ٱلۡغَيۡبِ وَٱلشَّهَٰدَةِ فَيُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمۡ تَعۡمَلُونَ 8
৮. হে রাসূল! আপনি এ সব ইহুদিদেরকে বলে দিন, তোমরা যে মৃত্যু থেকে পালিয়ে বেড়াও তা অবশ্যই তোমাদেরকে তাৎক্ষণিক কিংবা বিলম্বে পাবেই। অতঃপর তোমরা উপস্থিত-অনুপস্থিত সবজান্তা আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে। তাঁর নিকট এতদুভয়ের কোন কিছুই গোপন থাকে না। অতঃপর তিনি তোদেরকে দুনিয়ার কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সংবাদ ও এর প্রতিদান দিবেন।
ক. মানব জাতির উপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ব্যাপক অনুগ্রহ ও আরবদের উপর বিশেষ অনুগ্রহ। যেহেতু তারা জাহিলিয়্যাত ও ভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত ছিলো।
খ. হিদায়েত কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত অনুগ্রহ। তাই তা শুধু তাঁর নিকট থেকে চেয়ে নিতে হয় এবং তাঁর আনুগত্য দ্বারাই তা কামনা করতে হয়।
গ. ইহুদিদেরকে মৃত্যু কামনার চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এ দাবিতে তাদেরকে মিথ্যারোপ করা যে, তারা আল্লাহর আপন। কেননা, তারা যদি নিজেদের দাবিতে সত্য হয়ে থাকে তাহলে তারা তাই করুক। যেহেতু প্রিয়জন তার প্রিয়জনের সাক্ষাতে আগ্রহী হয়ে থাকে।