سورة মাক্কী
ওহীর সত্যতা এবং তা যে আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত তা সাব্যস্ত করা।
وَٱلنَّجۡمِ إِذَا هَوَىٰ 1
১. মহান আল্লাহ শপথ করেছেন তারকার যখন তা পতিত হয়।
مَا ضَلَّ صَاحِبُكُمۡ وَمَا غَوَىٰ 2
২. আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হেদায়েতের পথ থেকে বিচ্যুত হন নি। আর না তিনি পথভ্রষ্ট হয়েছেন। বরং তিনি সুপথগামী।
وَمَا يَنطِقُ عَنِ ٱلۡهَوَىٰٓ 3
৩. তিনি এই কুরআন দিয়ে তাঁর মনোবৃত্তির তাড়না অনুযায়ী কথা বলেন না।
إِنۡ هُوَ إِلَّا وَحۡيٞ يُوحَىٰ 4
৪. এই কুরআন ওহী ব্যতীত আর কিছুই নয়। যা জিবরীল (আলাইহিস-সালাম) মারফত আল্লাহ তাঁর উপর অবতীর্ণ করেছেন।
عَلَّمَهُۥ شَدِيدُ ٱلۡقُوَىٰ 5
৫. তাঁকে এটি এমন এক ফিরিশতা শিক্ষা দিয়েছেন যিনি মহা শক্তিধর। তিনি হলেন জিবরীল (আলাইহস সালাম)।
ذُو مِرَّةٖ فَٱسۡتَوَىٰ 6
৬. জিবরীল (আলাইহিস সালাম) হলেন সুন্দর রূপধারী। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)এর সামনে আল্লাহ তাঁকে যে আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন সেই আকৃতিতে প্রকাশ পেলেন।
وَهُوَ بِٱلۡأُفُقِ ٱلۡأَعۡلَىٰ 7
৭. তখন তিনি আকাশের সর্বোচ্চ দিগন্তে অবস্থানরত।
ثُمَّ دَنَا فَتَدَلَّىٰ 8
৮. অতঃপর জিবরীল (আলাইহিস-সালাম) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকটবর্তী হলেন। ফলে তিনি আরো নিকটবর্তী হলেন।
فَكَانَ قَابَ قَوۡسَيۡنِ أَوۡ أَدۡنَىٰ 9
৯. তাঁর দূরত্ব ছিল দুই ধনুক সমপরিমাণ কিংবা আরো কম।
فَأَوۡحَىٰٓ إِلَىٰ عَبۡدِهِۦ مَآ أَوۡحَىٰ 10
১০. তখন জিবরীল (আলাইহিস-সালাম) আল্লাহর বান্দা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর প্রতি যা ওহী করার তা ওহী করলেন।
مَا كَذَبَ ٱلۡفُؤَادُ مَا رَأَىٰٓ 11
১১. মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর অন্তর তাঁর চক্ষু যা প্রদর্শন করেছে সেটিকে মিথ্যারোপ করে নি।
أَفَتُمَٰرُونَهُۥ عَلَىٰ مَا يَرَىٰ 12
১২. হে মুশরিকরা! তোমরা কি তাঁকে তাঁর প্রতিপালক ভ্রমণের রাতে যা দেখিয়েছেন সে ব্যাপারে তাঁর সাথে ঝগড়া করছো?!
وَلَقَدۡ رَءَاهُ نَزۡلَةً أُخۡرَىٰ 13
১৩. মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পুনর্বার জিবরীলকে ভ্রমণের রাতে নিজ আকৃতিতে দেখেছেন।
عِندَ سِدۡرَةِ ٱلۡمُنتَهَىٰ 14
১৪. সিদরাতুল মুন্তাহার নিকট। সেটি হলো সপ্তাকাশের উপর একটি মহা প্রকাণ্ড বৃক্ষ।
عِندَهَا جَنَّةُ ٱلۡمَأۡوَىٰٓ 15
১৫. উক্ত বৃক্ষের নিকট রয়েছে জান্নাতুল মা’ওয়া।
إِذۡ يَغۡشَى ٱلسِّدۡرَةَ مَا يَغۡشَىٰ 16
১৬. যখন আল্লাহর কোন মহান বিষয় সেটিকে আচ্ছাদিত করে। যার মূল রহস্য আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না।
مَا زَاغَ ٱلۡبَصَرُ وَمَا طَغَىٰ 17
১৭. তার (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দৃষ্টি ডান-বাঁ হেলে নি। আর না তাঁর জন্য নির্ধারিত সীমা তিনি অতিক্রম করেছেন।
لَقَدۡ رَأَىٰ مِنۡ ءَايَٰتِ رَبِّهِ ٱلۡكُبۡرَىٰٓ 18
১৮. মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মেরাজের রাতে স্বীয় প্রতিপালকের ক্ষমতার প্রমাণবাহী বহু মহা নিদর্শনাবলী প্রত্যক্ষ করেছেন। তিনি জান্নাত দেখেছেন। জাহান্নাম দেখেছেন। এতদুভয়ের বাইরে আরো অনেক কিছু দেখেছেন।
أَفَرَءَيۡتُمُ ٱللَّٰتَ وَٱلۡعُزَّىٰ 19
১৯. হে মুশরিকরা! তোমরা কি দেখেছো সে সব দেবতাকে আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যেগুলোর ইবাদত করছো। তারা হলো “লাত” ও “উযযা”।
وَمَنَوٰةَ ٱلثَّالِثَةَ ٱلۡأُخۡرَىٰٓ 20
২০. আর তোমাদের তৃতীয় আরেকটি দেবতা “মানাত”। বলো সেকি তোমাদের কোন উপকার কিংবা অপকার করতে পারে?!
أَلَكُمُ ٱلذَّكَرُ وَلَهُ ٱلۡأُنثَىٰ 21
২১. হে মুশরিকরা! তোমাদের জন্য কি তোমাদের পছন্দের ছেলে। আর আল্লাহর জন্য কি তোমাদের অপছন্দের মেয়ে।
تِلۡكَ إِذٗا قِسۡمَةٞ ضِيزَىٰٓ 22
২২. তোমাদের প্রবৃত্তি কেন্দ্রিক এই ভাগাভাগি কিন্তু জুলুমের উপর ভিত্তিশীল।
إِنۡ هِيَ إِلَّآ أَسۡمَآءٞ سَمَّيۡتُمُوهَآ أَنتُمۡ وَءَابَآؤُكُم مَّآ أَنزَلَ ٱللَّهُ بِهَا مِن سُلۡطَٰنٍۚ إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا ٱلظَّنَّ وَمَا تَهۡوَى ٱلۡأَنفُسُۖ وَلَقَدۡ جَآءَهُم مِّن رَّبِّهِمُ ٱلۡهُدَىٰٓ 23
২৩. এ সব দেবতা তো কেবল অর্থহীন কিছু নাম মাত্র। এগুলোর মধ্যে উলূহিয়্যাতের গুনাবলীর কোন কিছুই নেই। যে সব নামকরণ তোমরা ও তোমাদের বাপ দাদারা মিলে নিজেরাই করেছো। যেগুলোর উপর আল্লাহ কোন প্রমাণ অবতীর্ণ করেন নি। বস্তুতঃ মুশরিকরা তাদের আকীদায় কেবল ধারণারই অনুসরণ করে। আর অনুসরণ করে শয়তান কর্তৃক তাদের মনে আকর্ষণ সৃষ্টিকারী কুপ্রবৃত্তির। অথচ তাদের নিকট তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর যবান মারফত হেদায়েত আগমন করেছে। কিন্তু তারা তদ্বারা হেদায়েত গ্রহণ করে নি।
أَمۡ لِلۡإِنسَٰنِ مَا تَمَنَّىٰ 24
২৪. না কি মানুষ আল্লাহর নিকট দেবতাদের যে সুপারিশ চায় তা পায়?!
فَلِلَّهِ ٱلۡأٓخِرَةُ وَٱلۡأُولَىٰ 25
২৫. না, বস্তুতঃ মানুষ যা কামনা করে তা পায় না। আল্লাহর জন্য এককভাবে প্রথম এবং শেষ তথা দুনিয়া ও আখিরাত। তিনি তা থেকে যা ইচ্ছা দান করেন। আর যা ইচ্ছা বারণ করেন।
۞وَكَم مِّن مَّلَكٖ فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ لَا تُغۡنِي شَفَٰعَتُهُمۡ شَيًۡٔا إِلَّا مِنۢ بَعۡدِ أَن يَأۡذَنَ ٱللَّهُ لِمَن يَشَآءُ وَيَرۡضَىٰٓ 26
২৬. আসমানে কতেক ফিরিশতা রয়েছেন যাঁরা সুপারিশ করতে চাইলে আল্লাহ কর্তৃক সে জন্য অনুমতি ও সুপারিশকৃতের ব্যাপারে সন্তুষ্টি ব্যতীত তাঁদের সুপারিশ কোন কাজে আসবে না। বস্তুতঃ আল্লাহ কস্মিনকালেও সুপারিশের উদ্দেশ্যে তাঁর সাথে যে ব্যক্তি কাউকে শরীক করেছে তার উপর সন্তুষ্ট হবেন না। আর না তিনি তার সুপারিশের পাত্র যে তাকে আল্লাহর পরিবর্তে মাবূদ বানিয়েছে তার উপর সন্তুষ্ট হবেন।
ক. নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর পূর্ণ আদবের প্রমাণ। যে তিনি সপ্তাকাশের উপরও চক্ষু এদিক সেদিক করেন নি।
খ. মুশরিকদের বিবেকের ধিক যে, তারা এমন বস্তুর ইবাদত করে যা না কোন উপকার করতে সক্ষম। আর না কোন অপকার। তারা আল্লাহর প্রতি এমন কিছুর সম্বন্ধ করে যেগুলোকে নিজেদের জন্য অপছন্দ করে। পক্ষান্তরে তারা নিজেদের জন্য এমন কিছু চয়ন করে যেগুলোকে তারা পছন্দ করে।
গ. সুপারিশ মূলতঃ দু’টি শর্ত ব্যতীত সংঘটিত হয় না ১. সুপারিশকারীর জন্য অনুমতি ২. যার জন্য সুপারিশ করা হবে তার উপর সন্তুষ্টি।