سورة মাক্কী
রাসূলগণের সহযোগিতা এবং মিথ্যারোপকারীদের ধ্বংসের ব্যাপারে আল্লাহর নিদর্শনাবলীর বর্ণনা।
طسٓمٓ 1
১. ত্বা-সীন-মীম। সূরা বাক্বারাহর শুরুতে এ জাতীয় অক্ষরগুচ্ছের উপর আলোচনা হয়েছে।
تِلۡكَ ءَايَٰتُ ٱلۡكِتَٰبِ ٱلۡمُبِينِ 2
২. এগুলো এমন কুরআনের আয়াত যা মিথ্যা থেকে সত্যকে স্পষ্ট করে।
لَعَلَّكَ بَٰخِعٞ نَّفۡسَكَ أَلَّا يَكُونُواْ مُؤۡمِنِينَ 3
৩. হে রাসূল! মনে হয় আপনি তাদের হিদায়েতের আশায় ও তাদের মর্ককাণ্ডে মনোকষ্টে নিজকে ধ্বংস করে দিবেন।
إِن نَّشَأۡ نُنَزِّلۡ عَلَيۡهِم مِّنَ ٱلسَّمَآءِ ءَايَةٗ فَظَلَّتۡ أَعۡنَٰقُهُمۡ لَهَا خَٰضِعِينَ 4
৪. আমি আকাশ থেকে এমন কোন নিদর্শন নাযিল করার ইচ্ছা করলে তা করতে পারতাম যার সামনে তারা নিজেদের ঘাড়গুলোকে নিচু ও অবনমিত করতে বাধ্য হতো। কিন্তু আমি তা করিনি, তাদেরকে এ পরীক্ষা করার জন্য যে, তারা সত্যিই অদৃশ্যের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে কিনা?
وَمَا يَأۡتِيهِم مِّن ذِكۡرٖ مِّنَ ٱلرَّحۡمَٰنِ مُحۡدَثٍ إِلَّا كَانُواْ عَنۡهُ مُعۡرِضِينَ 5
৫. যখনই দয়ালু প্রভুর পক্ষ থেকে তাঁর তাওহীদ ও তাঁর নবীর সত্যতা বুঝায় এমন প্রমাণাদিসহ নতুনভাবে কোন উপদেশ আসে তখনই তারা তা শুনা ও বিশ্বাস করা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
فَقَدۡ كَذَّبُواْ فَسَيَأۡتِيهِمۡ أَنۢبَٰٓؤُاْ مَا كَانُواْ بِهِۦ يَسۡتَهۡزِءُونَ 6
৬. তাদের রাসূল তাদের নিকট যা নিয়ে এসেছেন তারা তা অস্বীকার করেছে। তাই অচিরেই তাদের নিকট তাদের ঠাট্টাকৃত সংবাদগুলোর বাস্তবতা নেমে আসবে এবং তাদের উপর আযাব অবতরণ হবে।
أَوَ لَمۡ يَرَوۡاْ إِلَى ٱلۡأَرۡضِ كَمۡ أَنۢبَتۡنَا فِيهَا مِن كُلِّ زَوۡجٖ كَرِيمٍ 7
৭. তারা কি এখনো নিজেদের কুফরির উপর অটুট রয়েছে; অথচ তারা কি জমিনের দিকে তাকিয়ে দেখেনি যে, আমি তাতে প্রত্যেক ধরনের সুন্দর ও লাভজনক উদ্ভিদ তৈরি করেছি?!
إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَأٓيَةٗۖ وَمَا كَانَ أَكۡثَرُهُم مُّؤۡمِنِينَ 8
৮. নিশ্চয়ই জমিনে হরেক রকমের উদ্ভিদ তৈরির মাঝে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে যে, নিশ্চয়ই এগুলোর তৈরিকারক মৃতদেরকেও জীবিত করতে সক্ষম। তারপরও তাদের অধিকাংশরা এ ব্যাপারে ঈমান আনে না।
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلۡعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ 9
৯. হে রাসূল! নিশ্চয়ই আপনার প্রতিপালক অবশ্যই বিজয়ী। তাঁকে কেউ পরাজিত করতে পারে না। তিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু।
وَإِذۡ نَادَىٰ رَبُّكَ مُوسَىٰٓ أَنِ ٱئۡتِ ٱلۡقَوۡمَ ٱلظَّٰلِمِينَ 10
১০. হে রাসূল! আপনি স্মরণ করুন সে সময়ের কথা যখন আপনার প্রতিপালক মূসা (আলাইহিস-সালাম) কে এ আদেশ করে ডেকে বললেন যে, তিনি যেন সেই যালিম সম্প্রদায়ের নিকট আসেন যারা আল্লাহর সাথে কুফরি ও মূসা (আলাইহিস-সালাম) এর সম্প্রদায়কে গোলাম বানিয়ে নিয়েছে।
قَوۡمَ فِرۡعَوۡنَۚ أَلَا يَتَّقُونَ 11
১১. তারা হলো মূলতঃ ফিরআউনের সম্প্রদায়। তিনি যেন তাদেরকে দয়া ও নম্রতার মাধ্যমে আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকেই ভয় করার আদেশ করেন।
قَالَ رَبِّ إِنِّيٓ أَخَافُ أَن يُكَذِّبُونِ 12
১২. মূসা (আলাইহিস-সালাম) বললেন: আমি ভয় পাচ্ছি যে, আমি আপনার পক্ষ থেকে তাদের নিকট যা পৌঁছাবো তারা সে ব্যাপারে আমার প্রতি মিথ্যারোপ করবে।
وَيَضِيقُ صَدۡرِي وَلَا يَنطَلِقُ لِسَانِي فَأَرۡسِلۡ إِلَىٰ هَٰرُونَ 13
১৩. ফলে তাদের মিথ্যারোপের দরুন আমার অন্তর সঙ্কীর্ণ হয়ে যাবে এবং আমার কথা মুখে আটকে যাবে। তাই আপনি জিব্রীল (আলাইহিস-সালাম) কে আমার ভাই হারূনের নিকট পাঠান যেন সে আমার সহযোগী হতে পারে।
وَلَهُمۡ عَلَيَّ ذَنۢبٞ فَأَخَافُ أَن يَقۡتُلُونِ 14
১৪. উপরন্তু কিবতীকে মারার দরুন আমার প্রতি তাদের অপরাধের অভিযোগও রয়েছে। তাই আমার ভয় হচ্ছে যে, তারা আমাকে হত্যা করবে।
قَالَ كَلَّاۖ فَٱذۡهَبَا بَِٔايَٰتِنَآۖ إِنَّا مَعَكُم مُّسۡتَمِعُونَ 15
১৫. আল্লাহ তা‘আলা মূসা (আলাইহিস-সালাম) কে বললেন: না, কক্ষনোই না, তারা কষ্মিন কালেও তোমাকে হত্যা করতে পারবে না। তাই তুমি ও তোমার ভাই হারূন তার নিকট তোমাদের সত্যতা বুঝায় এমন নিদর্শনাবলী নিয়ে যাও। নিশ্চয়ই আমি সাহায্য ও সহযোগিতা নিয়ে তোমাদের সাথেই রয়েছি। আমি তোমরা যা বলো এবং তোমাদেরকে যা বলা হয় তা সবই শুনছি। এর কোন কিছুই আমার আয়ত্বের বাইরে নয়।
فَأۡتِيَا فِرۡعَوۡنَ فَقُولَآ إِنَّا رَسُولُ رَبِّ ٱلۡعَٰلَمِينَ 16
১৬. তোমরা ফিরআউনের নিকট গিয়ে তাকে বলো: আমরা উভয়ই সকল সৃষ্টির মালিকের পক্ষ থেকে তোমার নিকট প্রেরিত রাসূল।
أَنۡ أَرۡسِلۡ مَعَنَا بَنِيٓ إِسۡرَٰٓءِيلَ 17
১৭. তুমি আমাদের সাথে বনী ইসরাঈলকে পাঠিয়ে দাও।
قَالَ أَلَمۡ نُرَبِّكَ فِينَا وَلِيدٗا وَلَبِثۡتَ فِينَا مِنۡ عُمُرِكَ سِنِينَ 18
১৮. ফিরআউন মূসা (আলাইহিস-সালাম) কে বললো: আমরা কি তোমাকে শিশুকালে আমাদের কাছে রেখে লালন-পালন করিনি? আর তুমি কি নিজ বয়সের অনেকগুলো বছর আমাদের মাঝে কাটাওনি? তাহলে তুমি কেন আবার নবুওয়াতের দাবি করতে গেলে?
وَفَعَلۡتَ فَعۡلَتَكَ ٱلَّتِي فَعَلۡتَ وَأَنتَ مِنَ ٱلۡكَٰفِرِينَ 19
১৯. আর তুমি একটি মহা অন্যায় কাজ করেছো যখন তুমি নিজ বংশের একজনকে সাহায্য করতে গিয়ে একজন কিবতীকে হত্যা করেছো। তুমি মূলতঃ তোমাকে দেয়া আমার অনুগ্রহসমূহকে অস্বীকার করেছো।
ক. মানুষের হিদায়েতের জন্য রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর দীর্ঘ আকাঙ্ক্ষা ছিলো।
খ. আল্লাহর জন্য সম্মান ও রহমতের বৈশিষ্ট্যদ্বয় সাব্যস্ত করা।
গ. একজন দা‘য়ীর জন্য বাকপটুতা ও প্রশস্ত অন্তরের গুরুত্ব অপরিসীম।
ঘ. নবীদের দা’ওয়াত হলো মানুষকে আল্লাহ ছাড়া অন্য যে কারো গোলামি থেকে মুক্ত করার দা’ওয়াত।
ঙ. ফিরআউন মূসা (আলাইহিস-সালাম) এর রিসালাতের বিরুদ্ধে তাঁর মাধ্যমে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে প্রমাণ হিসেবে দাঁড় করালো। আর মূসা (আলাইহিস-সালাম) ও উক্ত কর্মের কথা স্বীকার করলেন। যা এ কথা বুঝায় যে, হত্যাকাণ্ডটি মূলতঃ ফিরআউনের অস্বীকারের কোন প্রমাণ হতে পারে না।