سورة মাক্কী
মু’মিনদের সফলতা ও কাফিরদের ক্ষতিগ্রস্ততার কর্ণনা।
قَدۡ أَفۡلَحَ ٱلۡمُؤۡمِنُونَ 1
১. আল্লাহর উপর ঈমান আনয়নকারী ও তাঁর শরীয়তের উপর আমলকারী মু’মিনরা তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করে এবং ভীতিপ্রদ বস্তু থেকে নাজাত পেয়ে সফলকাম হয়েছে।
ٱلَّذِينَ هُمۡ فِي صَلَاتِهِمۡ خَٰشِعُونَ 2
২. যারা নিজেদের সালাতে বিনয়ী। সালাতে তাদের অঙ্গগুলো স্থির এবং তাদের অন্তরগুলো অন্যান্য সকল ব্যস্ততা থেকে মুক্ত হয়েছে।
وَٱلَّذِينَ هُمۡ عَنِ ٱللَّغۡوِ مُعۡرِضُونَ 3
৩. যারা বাতিল ও অসার এবং যে কথা ও কাজগুলোতে পাপ রয়েছে সেগুলো থেকে মুক্ত।
وَٱلَّذِينَ هُمۡ لِلزَّكَوٰةِ فَٰعِلُونَ 4
৪. যারা নিজেদের অন্তরগুলোকে খারাপ বৈশিষ্ট্যাবলী থেকে এবং নিজেদের সম্পদগুলোকে সেগুলোর যাকাত আদায়ের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নকারী।
وَٱلَّذِينَ هُمۡ لِفُرُوجِهِمۡ حَٰفِظُونَ 5
৫. যারা নিজেদের লজ্জাস্থানগুলোকে ব্যভিচার, সমকামিতা ও সমূহ অশ্লীলতা থেকে রক্ষাকারী। ফলে তারা সাধু ও পবিত্র।
إِلَّا عَلَىٰٓ أَزۡوَٰجِهِمۡ أَوۡ مَا مَلَكَتۡ أَيۡمَٰنُهُمۡ فَإِنَّهُمۡ غَيۡرُ مَلُومِينَ 6
৬. তবে যারা নিজেদের স্ত্রী বা নিজেদের মালিকানাধীন বান্দীদেরকে সহবাস ইত্যাদির মাধ্যমে সম্ভোগ করলো তারা কখনোই নিন্দিত হবে না।
فَمَنِ ٱبۡتَغَىٰ وَرَآءَ ذَٰلِكَ فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡعَادُونَ 7
৭. কিন্তু যে ব্যক্তি নিজ স্ত্রী বা মালিকানাধীন বান্দী ছাড়া অন্য কোন মাধ্যমে যৌন সম্ভোগ করতে চাইবে সে অবশ্যই আল্লাহর দেয়া সীমারেখাগুলো অতিক্রমকারী। কারণ, সে হালালকৃত সম্ভোগ অতিক্রম করে হারামের দিকে ধাবিত হয়েছে।
وَٱلَّذِينَ هُمۡ لِأَمَٰنَٰتِهِمۡ وَعَهۡدِهِمۡ رَٰعُونَ 8
৮. আর যারা আল্লাহ অথবা তাঁর বান্দাদের আমানত ও অঙ্গীকারগুলো রক্ষাকারী। তারা সেগুলোকে নষ্ট না করে বরং সেগুলোকে পূর্ণ করেছে।
وَٱلَّذِينَ هُمۡ عَلَىٰ صَلَوَٰتِهِمۡ يُحَافِظُونَ 9
৯. আর যারা নিজেদের সালাতগুলোকে নিয়মিত এবং সেগুলোর রুকন, ওয়াজিব ও মুস্তাহাবসহ সময়মতো আদায় করে।
أُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡوَٰرِثُونَ 10
১০. এ বৈশিষ্ট্যাবলীর অধিকারীরাই হলো সত্যিকারের উত্তরাধিকারী।
ٱلَّذِينَ يَرِثُونَ ٱلۡفِرۡدَوۡسَ هُمۡ فِيهَا خَٰلِدُونَ 11
১১. যারা জান্নাতের উচ্চাসনের উত্তরাধিকারী হবে এবং সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। তাদের নিয়ামতগুলো কখনোই শেষ হবে না।
وَلَقَدۡ خَلَقۡنَا ٱلۡإِنسَٰنَ مِن سُلَٰلَةٖ مِّن طِينٖ 12
১২. আমি নিশ্চয়ই মানবপিতা আদমকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি। যে মাটি নেয়া হয়েছে এমন সারাংশ থেকে যা জমিনের মাটি মিশ্রিত পানি থেকে সংগৃহিত।
ثُمَّ جَعَلۡنَٰهُ نُطۡفَةٗ فِي قَرَارٖ مَّكِينٖ 13
১৩. অতঃপর আমি তার সন্তানদিগকে বংশ পরম্পরায় বীর্য থেকে তৈরি করেছি যা প্রসব পর্যন্ত জরায়ুতেই অবস্থান করে।
ثُمَّ خَلَقۡنَا ٱلنُّطۡفَةَ عَلَقَةٗ فَخَلَقۡنَا ٱلۡعَلَقَةَ مُضۡغَةٗ فَخَلَقۡنَا ٱلۡمُضۡغَةَ عِظَٰمٗا فَكَسَوۡنَا ٱلۡعِظَٰمَ لَحۡمٗا ثُمَّ أَنشَأۡنَٰهُ خَلۡقًا ءَاخَرَۚ فَتَبَارَكَ ٱللَّهُ أَحۡسَنُ ٱلۡخَٰلِقِينَ 14
১৪. অতঃপর আমি জরায়ুতে স্থিত বীর্যকে লাল জমাট রক্তে রূপান্তরিত করি। এরপর সে লাল জমাট রক্তকে চিবানো গোস্তের টুকরোতে রূপান্তরিত করি। অতঃপর সেই গোস্তের টুকরোকে শক্ত হাড়ে রূপান্তরিত করি। অনন্তর আমি সেই হাড়গুলোকে গোস্তের আবরণ দিয়ে ঢেকে দেই। এরপর তাতে রূহ ফুঁকিয়ে তাকে জীব হিসেবে বের করে এনে অন্য এক সৃষ্টি বানিয়ে ফেলি। সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ কতোইনা বরকতময়।
ثُمَّ إِنَّكُم بَعۡدَ ذَٰلِكَ لَمَيِّتُونَ 15
১৫. এরপর হে মানুষ! তোমরা এ পর্যায়গুলো অতিক্রম করে অচিরেই তোমাদের নির্ধারিত জীবন শেষে মৃত্যু বরণ করবে।
ثُمَّ إِنَّكُمۡ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِ تُبۡعَثُونَ 16
১৬. অনন্তর তোমাদেরকে মৃত্যুর পর কিয়ামতের দিন আবারো কবর থেকে উঠানো হবে। যাতে তোমাদের পেশকৃত আমলগুলোর হিসাব করা যায়।
وَلَقَدۡ خَلَقۡنَا فَوۡقَكُمۡ سَبۡعَ طَرَآئِقَ وَمَا كُنَّا عَنِ ٱلۡخَلۡقِ غَٰفِلِينَ 17
১৭. হে মানুষ! নিশ্চয়ই আমি তোমাদের উপর একের উপর আরেকটি করে সাতটি আকাশ তৈরি করেছি। বস্তুতঃ আমি কখনো আমার সৃষ্টি থেকে গাফিল ছিলাম না। না তাকে কখনো ভুলে গিয়েছিলাম।
ক. নিশ্চয়ই সফলতার বিভিন্ন মাধ্যম রয়েছে যেগুলো জানা ও সেগুলোর প্রতি আগ্রহী হওয়া খুবই জরুরী।
খ. সৃষ্টি ও শরীয়তের পর্যায়ক্রমিক ধারাবাহিকতা একটি ইলাহী নিয়ম।
গ. আল্লাহর জ্ঞান তাঁর সকল সৃষ্টিকে ঘিরে রয়েছে।