سورة মাদানী
আল্লাহর বড়ত্বের নিদর্শনাবলী বর্ণনার মাধ্যমে ওহী ও নবুওয়াত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা।
الٓمٓرۚ تِلۡكَ ءَايَٰتُ ٱلۡكِتَٰبِۗ وَٱلَّذِيٓ أُنزِلَ إِلَيۡكَ مِن رَّبِّكَ ٱلۡحَقُّ وَلَٰكِنَّ أَكۡثَرَ ٱلنَّاسِ لَا يُؤۡمِنُونَ 1
১. আলিফ-লাম-মীম-রা। সূরা বাকারার শুরুতে এ জাতীয় বিক্ষিপ্ত বর্ণাবলীর ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। হে রাসূল! এ সূরার মর্যাদাপূর্ণ আয়াতগুলো আর যে কুরআনকে আল্লাহ তা‘আলা আপনার উপর নাযিল করেছেন সেটি এমন সত্য যাতে কোন সন্দেহ নেই এবং তা যে আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে তাতেও কোন সংশয় নেই। তবে অধিকাংশ মানুষ অহঙ্কার ও গাদ্দারিবশত সেটির উপর ঈমান আনে না।
ٱللَّهُ ٱلَّذِي رَفَعَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ بِغَيۡرِ عَمَدٖ تَرَوۡنَهَاۖ ثُمَّ ٱسۡتَوَىٰ عَلَى ٱلۡعَرۡشِۖ وَسَخَّرَ ٱلشَّمۡسَ وَٱلۡقَمَرَۖ كُلّٞ يَجۡرِي لِأَجَلٖ مُّسَمّٗىۚ يُدَبِّرُ ٱلۡأَمۡرَ يُفَصِّلُ ٱلۡأٓيَٰتِ لَعَلَّكُم بِلِقَآءِ رَبِّكُمۡ تُوقِنُونَ 2
২. তিনি আল্লাহ যিনি আকাশগুলোকে দৃশ্যমান কোন খুঁটি ছাড়া উঁচু করে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি কোন ধরন ও দৃষ্টান্ত ছাড়া তাঁর সাথে মানানসই সুমহান আরশের উপর সুউচ্চ ও সমুন্নত হয়েছেন। তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে তাঁর সৃষ্টির উপকারের জন্য অনুগত করেছেন। সূর্য ও চন্দ্রের প্রত্যেকেই আল্লাহর জানা সীমিত সময় পর্যন্ত চলতে থাকবে। তিনি তাঁর ইচ্ছামতো আকাশ ও জমিনে আদেশ জারি করেন এবং তাঁর ক্ষমতা বুঝায় এমন নিদর্শনসমূহ বর্ণনা করেন। যাতে তারা কিয়ামতের দিন তাদের প্রতিপালকের সাক্ষাতে দৃঢ় বিশ্বাসী হয় এবং সে জন্য নেক আমলের মাধ্যমে প্রস্তুতি গ্রহণ করে।
وَهُوَ ٱلَّذِي مَدَّ ٱلۡأَرۡضَ وَجَعَلَ فِيهَا رَوَٰسِيَ وَأَنۡهَٰرٗاۖ وَمِن كُلِّ ٱلثَّمَرَٰتِ جَعَلَ فِيهَا زَوۡجَيۡنِ ٱثۡنَيۡنِۖ يُغۡشِي ٱلَّيۡلَ ٱلنَّهَارَۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَأٓيَٰتٖ لِّقَوۡمٖ يَتَفَكَّرُونَ 3
৩. তিনিই জমিনকে বিস্তৃত করে সেখানে স্থিতিশীল পাহাড় সৃষ্টি করেছেন। যাতে তা মানুষকে নিয়ে হেলে না যায়। তেমনিভাবে তিনি সেখানে নদ-নদী সৃষ্টি করেছেন মানুষ, পশু ও ফসলের প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহের জন্য। অনুরূপভাবে তিনি পশুদের নর-মাদির ন্যায় প্রত্যেক প্রকারের ফল জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন। তিনি দিনকে রাতের পোশাক পরিয়ে দেন। ফলে তা আলোকিত থাকার পর আবারো অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায়। উল্লিখিত এ সবে আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা ও গবেষণাকারীদের জন্য বিশেষ দলীল ও প্রমাণ রয়েছে। কারণ, তারাই এ দলীল ও প্রমাণ দ্বারা লাভবান হয়ে থাকে।
وَفِي ٱلۡأَرۡضِ قِطَعٞ مُّتَجَٰوِرَٰتٞ وَجَنَّٰتٞ مِّنۡ أَعۡنَٰبٖ وَزَرۡعٞ وَنَخِيلٞ صِنۡوَانٞ وَغَيۡرُ صِنۡوَانٖ يُسۡقَىٰ بِمَآءٖ وَٰحِدٖ وَنُفَضِّلُ بَعۡضَهَا عَلَىٰ بَعۡضٖ فِي ٱلۡأُكُلِۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَأٓيَٰتٖ لِّقَوۡمٖ يَعۡقِلُونَ 4
৪. জমিনে পরস্পর সংলগ্ন বিভিন্ন ভূখণ্ড রয়েছে। তাতে আরো রয়েছে আঙ্গুরের বাগান, শস্যক্ষেত, একই মূল থেকে বেড়ে উঠা খেজুর গাছ এবং বিভিন্ন মূল বিশিষ্ট খেজুর গাছসমূহ। এ বাগান ও শস্যক্ষেতগুলো একই পানি দ্বারা সিক্ত হয়। সেগুলো একই পানি দ্বারা সিক্ত এবং পরস্পর নিকটবর্তী হওয়া সত্ত্বেও আমি সেগুলোর কিছুকে অন্যের উপর স্বাদ ও অন্যান্য উপকারের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি। নিশ্চয়ই এ সবের মধ্যে বুদ্ধিমান জাতির জন্য বিশেষ দলীল ও প্রমাণ রয়েছে। কারণ, এরাই তো এগুলো দ্বারা উপদেশ গ্রহণ করে।
۞وَإِن تَعۡجَبۡ فَعَجَبٞ قَوۡلُهُمۡ أَءِذَا كُنَّا تُرَٰبًا أَءِنَّا لَفِي خَلۡقٖ جَدِيدٍۗ أُوْلَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ بِرَبِّهِمۡۖ وَأُوْلَٰٓئِكَ ٱلۡأَغۡلَٰلُ فِيٓ أَعۡنَاقِهِمۡۖ وَأُوْلَٰٓئِكَ أَصۡحَٰبُ ٱلنَّارِۖ هُمۡ فِيهَا خَٰلِدُونَ 5
৫. হে রাসূল! আপনি যদি কোন কিছুতে আশ্চর্য হোন তাহলে বেশি আশ্চর্য হওয়ার উপযুক্ত হলো তাদের পুনরুত্থান অস্বীকার ও তার প্রমাণে এমন কথা বলা যে, আমরা যখন মরে মাটি ও পুরানো জীর্ণ-শীর্ণ হাড়ে পরিণত হবো তখনো কি আমাদেরকে আবারো জীবিত পুনরুত্থিত করা হবে?! এ মৃত্যুর পর পুনরুত্থানে অবিশ্বাসীরাই নিজেদের প্রতিপালকের সাথে কুফরি করে মৃতদেরকে পুনরুত্থানে তাঁর ক্ষমতাকে অস্বীকার করেছে। এদের গলায় কিয়ামতের দিন আগুনের শিকলসমূহ পরানো হবে এবং তারাই হবে জাহান্নামের অধিবাসী। তাতে তারা চিরকাল থাকবে। না তারা নিঃশেষ হবে, না তাদের শাস্তি বন্ধ হবে।
ক. আল্লাহর অসীম ক্ষমতার প্রমাণ এবং বিশাল ও বিস্তৃত সৃষ্টি হওয়া সত্ত্বেও ভার বহনকারী খুঁটি ছাড়া তাঁর আকাশ সৃষ্টির ব্যাপারে আশ্চর্য হওয়া।
খ. সৃষ্টির প্রমাণের মাধ্যমে আল্লাহর অসীম ক্ষমতা ও তাঁর প্রভুত্বের পূর্ণতা সাব্যস্ত করা। কারণ, তিনি প্রকাণ্ড উদ্ভিদ উৎপন্ন করেন। তিনি একেবারে ছোট্ট বীজ থেকে উদ্ভিদসমূহ বের করে একই পানি দ্বারা সিক্ত করেন। এতদসত্ত্বেও সেগুলোর ফলের রং, স্বাদ ও গঠন বিভিন্ন প্রকৃতির হয়ে থাকে।
গ. অনস্তিত্ব থাকার পর ছোট্ট বীজ থেকে আল্লাহ যে প্রকাণ্ড গাছগুলো বের করে আনেন তার মাঝে পুনরুত্থান অস্বীকারকারী মুশরিকদের জন্য উত্তর রয়েছে। কারণ, জমিনে গলে গিয়ে ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়া হাড়গুলোর বিভিন্ন অংশকে পুনরায় একত্রিত করাই সেগুলোর পুনরুত্থান; অথচ সেগুলো পূর্বে ছিলো। আর বীজ থেকে অস্তিত্বহীন বস্তুকে বের করে আনার চেয়ে এটা অনেক সহজ।